পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বহুজাতিক কোম্পানি লিন্ডে বাংলাদেশ লিমিটেডের শেয়ারদর গত সপ্তাহে ৯ দশমিক ৭৮ শতাংশ কমেছে। আলোচ্য সপ্তাহে শেয়ারটির সমাপনী দর দাঁড়িয়েছে ৯৩৯ টাকা ৭০ পয়সায়, আগের সপ্তাহে যা ছিল ১ হাজার ৪১ টাকা ৬০ পয়সা। এতে শেয়ারটি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাপ্তাহিক দরপতনের শীর্ষ তালিকায় উঠে এসেছে।
আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, সর্বশেষ ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৪ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য ৪৫০০ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে লিন্ডে বাংলাদেশের পর্ষদ। এর মধ্যে ৪১০০ শতাংশ অন্তর্বর্তী ও ৪০০ শতাংশ চূড়ান্ত লভ্যাংশ রয়েছে। আলোচ্য হিসাব বছরে লিন্ডে বাংলাদেশের হার্ড গুডস বিক্রি ও অন্যান্য আয়সহ শেয়ারপ্রতি সমন্বিত আয় (ইপিএস) হয়েছে ৪২১ টাকা ৯৪ পয়সা। সমাপ্ত ২০২৪ হিসাব বছরে কোম্পানিটির মূল ব্যবসা থেকে ইপিএস হয়েছে ২৪ টাকা ৯২ পয়সা, আগের হিসাব বছরের যা ছিল ১৫ টাকা ২ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ২২৯ টাকা ৩৪ পয়সায়।
৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৩ হিসাব বছরে কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের জন্য কোনো চূড়ান্ত লভ্যাংশ সুপারিশ করেনি। এর আগে ঘোষিত ১ হাজার ৫৪০ শতাংশ অন্তর্বর্তী লভ্যাংশই কোম্পানিটির চূড়ান্ত লভ্যাংশ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। ৩১ অক্টোবর ২০২৩ পর্যন্ত নিরীক্ষিত অন্তর্বর্তীকালীন আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদন করে এ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছিল কোম্পানিটি। ২০২৩ হিসাব বছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ১৫ টাকা ২ পয়সা, আগের বছরে যা ছিল ৫৮ টাকা ৪ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৩ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি এনএভিপিএস দাঁড়ায় ৩৭১ টাকা ২৭ পয়সায়।
৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২২ হিসাব বছরে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ৪২০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশের সুপারিশ করে লিন্ডে বাংলাদেশের পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৫৮ টাকা ৪ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৮০ টাকা ৫৫ পয়সা।
৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২১ হিসাব বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের মোট ৫৫০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে লিন্ডে বাংলাদেশ। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৮০ টাকা ৫৫ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৭০ টাকা ৫৫ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২১ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়ায় ৩৯৫ টাকা ৫৫ পয়সায়।
৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২০ হিসাব বছরে শেয়ারহোল্ডারদের ৪০০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল লিন্ডে বাংলাদেশ। আগের হিসাব বছরে ৫০০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল কোম্পানিটি। ২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত হিসাব বছরে ৩৭৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ পেয়েছিলেন প্রতিষ্ঠানটি শেয়ারহোল্ডাররা। ২০১৭ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে কোম্পানিটি ১৪০ শতাংশ চূড়ান্ত নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল। ওই হিসাব বছর শেয়ারহোল্ডারদের ২০০ শতাংশ অন্তর্বর্তী নগদ লভ্যাংশও দিয়েছিল তারা। এছাড়া ২০১৬ ও ২০১৫ হিসাব বছরে ৩১০ শতাংশ হারে নগদ লভ্যাংশ পেয়েছিলেন কোম্পানিটির শেয়ারহোল্ডাররা।
লিন্ডে বাংলাদেশ ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ অক্সিজেন কোম্পানি নামে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। কোম্পানিটির অনুমোদিত মূলধন ২০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ১৫ কোটি ২১ লাখ ৮০ হাজার টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ৫৭৮ কোটি ২০ লাখ টাকা। কোম্পানিটির মোট শেয়ার সংখ্যা ১ কোটি ৫২ লাখ ১৮ হাজার ২৮০। এর মধ্যে ৬০ শতাংশ রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ২১ দশমিক ৯০ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে বাকি ১৮ দশমিক ১০ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।